কোভিড-১৯ এ নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘সোনালী আঁশ’ পাট।

কোভিড-১৯  এ নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘সোনালী আঁশ’ পাট।

কোভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কায় প্রায় সব খাতের রপ্তানি আয়ে যেখানে বড় ধস নেমেছে, সেখানে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘সোনালী আঁশ’ পাট।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল)পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৭৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার আয় করেছে।
এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি।
আর এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে চামড়াকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিল পাট খাত।
## জুলাই-এপ্রিল সময়ে মোট ২ হাজার ৯৪৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩.০৯% কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে ২১.২৪% কম।
## এই দশ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। তা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪.০৮% এবং লক্ষ্যের চেয়ে ২২.২৪% কম।
## চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬.২৬% কম।
## এই সময়ে হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ পাটপণ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেজিইএ) চেয়ারম্যান এম সাজ্জাদ হোসাইন সোহেল বলেন, “বিশ্ব বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় টাকার অংকে আমাদের রপ্তানি বেড়েছে, যদিও পরিমাণে খুব একটা বাড়েনি। তবে আমরা আশাবাদী, পাট আমাদের জন্য সুখবর বয়ে আনতে পারে।”
তবে মহামারীর ধাক্কা পাটেও লেগেছে জানিয়ে তিনি বলেন, মার্চ মাসে যেখানে এ খাতে রপ্তানিতে ২৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ছিল, লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকায় এপ্রিলে তা ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
তারপরও আশাবাদী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিজেজিইএ চেয়ারম্যান বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে অন্যান্য পণ্যের চাহিদা কমলেও পাটপণ্যের চাহিদা কমবে না। খাদ্যের জন্য ফসল ফলাতেই হবে, আর সেই ফসল প্যাকেট বা বস্তাবন্দি করতে পাটের থলে লাগবে। অষ্ট্রেলিয়া থেকে এরইমধ্যে অর্ডার পেতে শুরু করেছি আমরা।”

পাটের তৈরি এসব পণ্য রপ্তানিও হয়। ছবি: মোস্তাফিজুর রহমান
সোহেল বলছেন, পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনায় এমনিতেই পলিথিন ব্যবহার কমে আসছিল বেশিরভাগ দেশে। কোভিড-১৯ সঙ্কটের মধ্যে লকডাউনে দূষণ কমে আসার বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে।
“আমার বিশ্বাস, পরিবেশের বিষয়টি সামনে আরও জোরালোভাবে সামনে আসবে। আর তাতে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়বে।”
বস্তা বা ব্যাগের পাশাপাশি কার্পেটের জন্যও বাংলাদেশের পাটের চাহিদা বাড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “কার্পেট তৈরিতে আমাদের জুট ইয়ার্ন ব্যবহৃত হয়। কোভিড-১৯ আতঙ্কে অনেকেই বাসা বা অফিসের কার্পেট পরিবর্তন করবেন। তখন আমাদের পাটের কদর বাড়বে।”
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাত থেকে ৮১ কোটি ৬৩ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ২০ শতাংশ কম।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে এক হাজার ২৬ কোটি ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। ওই একবারই এ খাতের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল।
তার আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯২ কোটি ডলার আয় হয়েছিল এ খাত থেকে।
চলতি অর্থবছরের পাট খাত থেকে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থবছর শেষে এরচেয়ে বেশিই আসবে বলে আশা করছেন বিজেজিইএ চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসাইন সোহেল।
সোহেল জানান, বিশ্ব বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মত বেড়েছে। কাঁচা পাটের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশের মত। বিশ্বব্যাপী পলিথিনের ব্যবহার কমায় পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে।
“ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। আমরা আমাদের সোনালী আঁশের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারব যদি এ খাতের দিকে একটু নজর দিই। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ ছাড়া আর মাত্র একটি-দুটি দেশে পাট উৎপাদন হয়। বিশ্ব যত বদলাবে পাট পণ্যের চাহিদা তত বাড়বে।”
পাট পণ্যের প্রদর্শনীর একটি স্টলে দর্শক।
পাট পণ্যের প্রদর্শনীর একটি স্টলে দর্শক।
সেই নজর দেওয়ার অংশ হিসেবে উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া, প্রয়োজনে প্রণোদনা দেওয়া, বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন বিজেজিইএ চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় এখন আমাদের ব্যবসায়ীরা প্রচুর কাঁচাপাট আমাদের মিলগুলোর কাছে বিক্রি না করে ভারতে রপ্তানি করছে। এতে আমরা পাটের অভাবে ব্যাগ, থলে, বস্তাসহ অন্যান্য পাটজাত পণ্য উৎপাদন করতে পারছি না। এখানে কাঁচাপাটে যে বাড়তি লাভ, সেটা কিন্তু কৃষক পেল না।”
সরকার দেশে পাটের ব্যবহার বাড়াতে ২০১০ সালেই আইন করেছে। সে আইন অনুযায়ী ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি- এই ছয় পণ্য সংরক্ষণ, সরবরাহ ও মোড়কীকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সবক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন সোহেল।
“দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করছি, শুধু ধান, চাল ও গমে পাটের মোড়ক ব্যবহার হচ্ছে, সেটাও স্বল্প আকারে; রাজধানী ঢাকায়। জেলা-উপজেলায় কেউ মানছে না এই আইন।”
ছয়টি পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা গেলে দেশে পাটকলের সংখ্যা দ্বিগুণ হত এবং কর্মসংস্থানও বাড়ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবদুল কাইয়ুম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে ইউরোপের অনেক বাজারে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। সেই বাজার কিন্তু বিশাল; প্লাস্টিকের ব্যাগের বিকল্প হতে পারে পাটের ব্যাগ। ওই বাজার ধরতে আমাদের এখনই প্রস্তুত হতে হবে।”
মনিকগঞ্জের ঘিওর হাটে সোনালী আঁশ পাটের বিকিকিনি। ছবি: মোস্তাফিজুর রহমান
মনিকগঞ্জের ঘিওর হাটে সোনালী আঁশ পাটের বিকিকিনি। ছবি: মোস্তাফিজুর রহমান
একই ধরনের মত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক কৃষি অর্থনীতিবিদ এম আসাদুজ্জামান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “পাট থেকে বেশি অর্থ আসাটা ভালো খবর। তবে এতে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আগামী দিনগুলোতেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।”
আসাদুজ্জামান বলেন, “বিশ্বব্যাপী যেভাবে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, তাতে পাটের চাড়িদা বাড়তেই থাকবে। এ বিষয়টি অনুধাবন করে আমরা যাতে ধারাবাহিকভাবে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বাড়াতে পারি সে ব্যবস্থা করতে হবে।”
বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে মোট ২২টি এবং বেসরকারি খাতে প্রায় ২০০ পাটকল রয়েছে।
তুরস্ক, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বেনিন, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, কানাডা, চিলি, চীন, কংগো, কোস্টারিকা, মিসর, ইতালি, ইন্দোনেশিয়া, ইথোপিয়া, গাম্বিয়া, জার্মানি, গোয়েতেমালা, হাইতি, ভারত, আয়ারল্যান্ড, ইরান, জাপান, জর্ডান, কোরিয়া, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, মেক্সিকোসহ বিশ্বের ৫০টি দেশে পাট ও পাট পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

করোনার অবসরে দুশ্চিন্তায় আছেন? কিছু কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

'করোনার অবসরে দুশ্চিন্তায় আছেন? কিছু কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন- মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ। '
 করোনার জন্য ঘরে বসে থাকার এই সময়টাকে দারুণ কিছু কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখে যেমন দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, হতাশাকে কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজেকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করে তোলা যাবে। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারি করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও ঘরে থাকার জন্য বলা হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার এই সময়ে সব সময় নেগেটিভ সংবাদ দেখতে থাকলে আপনি হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে যাবেন নিজের অজান্তেই তাই আপনি কিছু কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। আমি নিজেকে যেভাবে এই সময়ে ব্যস্ত রাখছি তাই তুলে ধরছি আপনার জন্য। 

 ★ আমি সকালে উঠে সালাত আদায় করে একটু নির্মল বাতাসে যাই , দেখবেন একটু ফ্রেশ লাগবে। তখন চিন্তা করুন, সারা দিন কিভাবে সুন্দর ভাবে কাটানো যায়। দিনের শুরুতেই পরিকল্পনা মাথায় একে ফেলুন ঝটপট। 

 ★ সারাদিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য আমরা অনেকেই শ’রী’র চর্চা বা ব্যায়াম করা হয়ে উঠে না। তবে, এখন হোম কোয়ারেন্টাইনের এই সময়টিতে নিজেকে সুস্থ্য রাখতে শ’রী’র চর্চা করতে পারেন। আমি দিনের শুরুতেই এ পর্ব চুকিয়ে নেই। 

 ★ মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে সচেতনতার পাশাপাশি ধর্মচর্চায় অগ্রগামী হউন। নিয়মিত নামাজ পড়ুন ও কোরআন শরীফ পড়ুন, মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে রহমত কামনা করুন। 

 ★ অবসরের সবচেয়ে ভালো বন্ধু বই। এই সময়ে আপনার পছন্দের বইগুলো পড়ে ফেলুন, ব্লগ লিখা শুরু করতে পারেন এই অবসরে । আমি নিয়মিত বই পড়ার সময় ডায়রি সাথে নিয়ে কোন উক্তি বা আইডিয়া মাথায় আসতেই হারিয়ে যাওয়ার আগে ঝটপট টুকে রাখি। আপনিও একটি ডায়রি সাথে রাখতে পারেন বই পড়ার সময়ে। 

 ★ খুব টেনশনের সময় মানুষের সঙ্গ নিন, কমিউনিকেশন জোরদ্বার করুন। নানাবিধ সীমাবদ্ধতা যাদের খোঁজ খবর নেয়া হয়ে উঠে না তাদের সাথে কমিউনিকেশন শুরু করুন এই অবসরেই। অনেকটা চাপমুক্ত থাকতে পারবেন এবং পুরানো বন্ধুদের সাথে গল্প জমানোর সুযোগ এখনই । তেমন প্রিয় কোনো মানুষের সঙ্গ অনেকটাই মনের চাপকে কমিয়ে দেয় বলে মত মনোবিদদের। আমি আমার নাম্বর প্যাড থেকে নিয়মিত কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করার রুটিন তৈরি করে নিয়েছি। 

 ★ জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে, সেলফ মোটিভেট হতে হবে। প্রতিদিন ধ্যান বা মেডিটেশনের অভ্যাস আপনাকে অনেকটাই টেনশনমুক্ত রাখার চেষ্টা করবে। নিজেকে নিজে চেনার চেষ্টা করুন। সারাদিনের ভালোকাজ গুলো খুজে বের করুন, ভাললাগার বিষয়গুলো খেয়াল রেখে কাজ করুন আত্মতৃপ্তি পাবেন নিশ্চয়ই। 

 ★ নতুন একটি দ্বিতীয় ভাষা শিখুন। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে “More languages equal more opportunities“ মানে আপনার যতগুলো ভাষা জানা থাকবে আপনার সামনে ততো বেশি সুযোগ থাকবে এবং আপনার ক্যারিয়ারে উন্নতি করার সম্ভাবনা ততো বেশি। অবসরে সময় কাটানোর সেরা আর একটি উপায় হল নতুন একটি ভাষা শেখা। আমি আরবি এবং ইংরেজি ভাষাকে আরও একটু ভাল ভাবে শেখার চেষ্টা শুরু করেছি, আপনিও শুরু করুন। 

 ★ স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করুন। অসহায় মানুষের সেবা করার মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি ও আনন্দ রয়েছে তা লিখে বুঝানো সম্ভব নয়। গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান আমি নিশ্চিত আপনার হতাশা কেটে যাবে। সেচ্ছাসেবী কাজে আপনি একটি নতুন জগৎ সম্পর্কে জানতে পারবেন, একটি নতুন জীবনধারা এবং জীবনের অর্থ খুজে পাবেন নতুন করে। আপনার ভাবনার জগত দ্রুত বড় হয়ে উঠবে এবং আপনি সত্যিকার অর্থে পরিপক্ক হবেন। 

 ★ নতুন কোন দক্ষতা অর্জন করুন। আমি নির্দিষ্ট বিষয়ের দক্ষতা অর্জনের জন্য ইউটিউবে ভিডিও সিরিজ ডাউনলোড করে দেখতে থাকি। আপনিও শুরু করুন। নিরাপদ ইন্টারনেটের উপর অল্প সময়ে একটা কোর্স সম্পন্ন করে সার্টিফিকেট নিয়েছি। লিংকডইন মার্কেটিং এর উপরে কোর্স করেছি এই অবসরে। আপনিও স্কিল ডেভলপ করার কাজ শুরু করে দিন।
 লেখকঃ শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তা।

পাটের বহুমূখি ব্যাবহার বদলে যাবে অর্থনীতি : পাট পাগল ইব্রাহিম খলিল | Jute Industry


আসসালামু আলাইকুম আজ কথা বলবো একজন পাট ব্যক্তিত্বকে নিয়ে, যাকে আমরা পাট পাগল বলে চিনে থাকি এক সময় সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস আমাদের দেশের উৎপাদিত পাট পাট তন্তু (আশ) জাতীয় উদ্ভিদ যা বিদেশে রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করায় সোনার সাথে তুলনা দিয়ে বলা হয় আমাদের দেশের সোনালী আশ বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ পাট উৎপাদনকারী দেশ আর গৌরব ধরে রাখতে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশী গড়ে উঠেছে একাধিক প্রাইভেট Jute Industry.

আগে পাট দিয়ে শুধু বস্তা বা এই জাতিয় পণ্য তৈরি হত। এখন পাটের বহুমূখি ব্যবহার হচ্ছে। এখন আমরা পাটের পলি ব্যাগ, জুতা, বিভিন্ন ধরনের খেলনাও তৈরি হচ্ছে। খাদ্য পণ্য হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে। পাট পণ্যের বহুমুখি ব্যবহার এবং প্রচার নিয়ে কথা বলেছেন বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্ব পাট পাগল ইব্রাহিম খলিল।যার হাত ধরেই সফলতার পথ পেয়েছে অনেক নামি দামি Jute Industry তিনি কথা বলেছেন টেকজুম আড্ডায়। একটু পরেই আমরা  কথা না বাড়িয়ে সরাসসি চলে যাব সেই আড্ডায় তার আগে বলে রাখি-
পাট নিয়ে আমাদের এই সাইটে নিয়মিত লেখালেখি করেন অনেক পাটপ্রেমী আমরা চেষ্টা করি স্যারের এই পাটের ভালোবাসাকে ধরে রাখতে প্রতি সপ্তাহে না পারলেও অন্তত মাসে একটি পোস্ট এই সাইটে পাবলিশ করার এবং তরুণ প্রজন্মকে পাটের প্রতি উৎসাহিত করার। স্যারের সাথে যোগাযোগ করা সহ পাটের ব্যাপারে যেকোন জিজ্ঞাসা থাকলে আপনি কমেন্ট করতে পারেন। আমরা অপনার কমেন্ট এর রিপ্লাই দিব ইনশাআল্লাহ। আর খুব শিঘ্রই পাটের উপর আলাদা একটি ব্লগ ( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় ) নিয়ে আসতে চাই, ইনশাআল্লাহ [ যা ভবিষ্যৎে ইংরেজিতেও পাওয়া যাবে]যেখানে থাকবে পাট চাষিদের পাট চাষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, চাষিদেরকে পাট চাষে উদ্ভুদ্ধ করণ, নতুন উদ্যোক্তাদের পরামর্শ প্রদান, পাট পণ্য তৈরির টিউটোরিয়াল, পাট পণ্যের মার্কেটিং করার কলা-কৌশল, সকল সফল উদ্যেক্তাদের প্রতিষ্ঠান সহ ব্যক্তিগত উক্তি, কারখান তৈরি থেকে শুরু করে একদম এক্সপোর্ট পর্যন্ত সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদনের বিষয়ে আলাদা আলাদা আর্টিকেল এবং আরো অন্যান্য সকল বিষয় যা পাটের সাথে রিলেটেড।এ ব্যাপারে আপনাদের মতামত  আগ্রহ কামনা করছি।আর আমার সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে চাইলে  এখানে ক্লিক করে আমার প্রফাইল থেকে মেসেজ করতে পারেন।চলুন ! সেই আড্ডায় যুক্ত হই:

উদ্যোক্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার ১৫ গুণাবলী

উদ্যোক্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার ১৫ গুণাবলী!

-  এ আর মিলন

নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিতে কার না ভালো লাগে। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে চাহিদার কিংবা আকর্ষণের একটি কাজ হচ্ছে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। ব্যবসা কিংবা চাকরি যেকোনো জায়গাতেই মানুষ চায় নিজেকে কিছুটা আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে। তাই তো বর্তমান সময়ের তরুণ তরুণীদের আকর্ষণের একটি জায়গা হচ্ছে নিজেকে উদ্যোক্তার আসনে দেখা। যদি আপনি উদ্যোক্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা করে থাকেন তবে অবশ্যই আপনার মাঝে কিছু গুণাবলি থাকতে হবে যেমনঃ

১.আত্মবিশ্বাস
প্রত্যেক মানুষের কিছু গুণ থাকে। সফল উদ্যোক্তার প্রধান গুণ হচ্ছে আত্মবিশ্বাস।একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী হতে হবে,যার আত্মবিশ্বাস যত বেশি তার সাফল্য তত বেশি। যদিও এটি অর্জন করা কঠিন। সফল উদ্যোক্তা তার আশপাশের আত্মবিশ্বাসী লোকদের মধ্যে অন্যতম। আপনাকে হতে হবে স্থির ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, যা আত্মবিশ্বাসকে আরও বৃদ্ধি করে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে।

২.ধৈর্যশীলতা
কঠোর ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে ব্যবসার পথকে অধিকতর মসৃণ করতে হবে। ব্যবসায় সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতা নামক শব্দটি থাকে। ব্যর্থতা নামক শব্দটিতে ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যবসার সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সফল উদ্যোক্তা হতে অবশ্যই ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

৩.কঠোর পরিশ্রমী
উদ্যোক্তা হতে হলে কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। তিল তিল করে গড়ে তোলা বিজনেস এক সময় বিশাল শিল্প সামাজ্য করে তুলতে সততা আর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। এরপর আপনাকে হতে হবে ডায়নামিক এবং চৌকস। কেননা উদ্যোক্তা হতে আপনাকে পিওন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রধানের সঙ্গে পর্যন্ত কথা বলতে হবে। অধিক পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। কোনো কারণে কাজে সফল না হতে পারলে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। অধিক মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

৪.লক্ষ্য স্থির করা
জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে লক্ষ্য স্থির করা। আপনি যখন কোনো কাজ মন প্রাণ দিয়ে করতে চাইবেন দেখবেন নানা ভাবে নানা সমস্যা মাথাচারা দিয়ে উঠছে। আপনার হয়ে যাওয়া কাজটাও শেষ মূহূর্তে আর করা হয়ে উঠছে না। এই পর্যায়ে বেশিরভাগ নতুন উদ্যোক্তাদের মনে এটাই আসে যে আমাকে দিয়ে আর হবে না। আমি এই কাজটি শেষ করতে পারবো না। এটি আপনার মনোবল ভেঙ্গে দেয় যাতে করে আপনি আর আপনার লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। তাই সবার আগে লক্ষ্য স্থির করুন।

৫.নেটওয়ার্ক তৈরি
একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি অনেক কিছুই জানেন না। সেই দিক থেকে নতুন কিছু করতে গেলে আপনাকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হবে। তাই যত পারুন আপনার আশেপাশের মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করুন। এটি আপনাকে নানা তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে। সেই সাথে আপনার জন্য এই যোগাযোগ আপনার জন্য কাজ করবে নেটওয়ার্ক হিসেবে।

৬.এ্যাডভারটাইজিং
আপনি আপনার কাজকে যত সুন্দর করে মানুষের মাঝে তুলে ধরবেন তার কদর ততো বাড়বে। আর সেই ক্ষেত্রে মোবাইল এ্যাডভারটাইজিং হতে পারে আপনার প্রথম স্টেপ। সেজন্য আপনার আশেপাশের বন্ধু কিংবা আত্নীয়দের নির্বাচন করুন। এরপর তাদের আপনার কাজ মেইল কিংবা নানাভাবে প্রদর্শন করুন। যখন দেখবেন সাড়া পাচ্ছেন, তখন বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন।

৭.উদ্ভাবন থেকে বিরত না থাকা
মনে রাখুন আপনি একজন উদ্যোক্তা। আপনার কাজই হচ্ছে নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করা। নতুনকে সবার মাঝে তুলে ধরা। পিছনে হাজার মানুষ হাজারটা কথা বলবেই। তাকে নিয়ে বসে থাকলে আপনি কখনো সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবেন না। তাই সব সময় নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন।

৮.সুযোগ সন্ধান করা
ব্যবসা সংক্রান্ত নতুন নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করা এবং এগুলোর উপর কাজ করা । আথিক সংস্থান, যন্ত্রপাতি, জমি বা অন্যান্য সহযোগিতার জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করা ।

৯.অধ্যবসায়
জীবনে যে কোনো অর্জনের জন্য আপনাকে অধ্যবসায়ী হতে হবে,অধ্যবসায় ছাড়া কোনো অর্জনই সম্ভব নই। একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে অবশ্যই অধ্যবসায়ী হতে হবে। জীবনে চলতে গেলে বাঁধা আসবেই, তাই বলে থমকে গেলে চলবে না ,সামনে যতই বাঁধা আসুক না কেন অবিরাম বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে সে সমস্ত বাঁধাকে দূর করকে হবে।

১০.কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা
কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকুন,শ্রমিকদের সাথে কাজে লেগে থাকুন এবং তাদের মাধ্যমে কাজগুলো করিয়ে নিন, যাতে গ্রাহকগণ সবসময় সন্তুষ্ট থাকে।একটা বিষয় মনে রাখবেন আপনি তখনি আপনার ইমপ্লয়িদের কাছথেকে খুব ভালো ফলাফল পাবেন যখন আপনি আপনার ইমপ্লয়িদের হ্যাপি রাখবেন।

১১.গুনগত মান ও দক্ষতা
এমনভাবে কাজ করুন যেন তা প্রচলিত মানের চেয়ে ভাল হয় বা অতীত কাজের চেয়ে উন্নতর হয় । গুনগত মান ঠিক রেখে ভালভাবে, দ্রুত ও সস্তায় দক্ষতার সাথে কাজ করবার চেষ্টা করুন ।

১২.ঝুকি গ্রহণ
একজন উদ্যোক্তা হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে ঝুঁকি গ্রহন করা,একজন উদ্যোক্তা হতে হলে আপনকে সহনীয় ক্ষমতা অনুযায়ী ঝুকি গ্রহণ করার মানসিকতা রাখতে হবে। সহনীয় ঝুকি সম্পন্ন পরিস্থিতিতে যুক্তিযুক্ত অগ্রাধিকার সমূহ প্রদান করা।

১৩.সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা তৈরী করা
সুশৃঙ্খল পরিবেশ ছাড়া কোন কাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়, তাই লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপসহ পরিকল্পনা তৈরী করুন ও অনুসরন করুন ।বিকল্প পদক্ষেপ তৈরি করুন । লক্ষ্য পৌছানোর জন্য প্রয়োজনে বিকল্প পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন ।

১৪.তথ্য অনুসন্ধান
তথ্য সংগ্রহ করুন,ব্যক্তিগতভাবে গ্রাহক, সরবরাহকারী ও প্রতিযোগিদের সম্পকে তথ্য অনুসন্ধান করুন।আপনি যত বেশি আপনার প্রতিযোগীদের প্রতি সচেতন থাকবেন তত বেশি নিজের কোম্পানির উন্নতি করতে পারবেন। তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক তৈরি করুন ও তথ্যগুলোকে কাজে লাগান ।

১৫.মূলধন নিয়ে সচেতন থাকা
আমাদের দেশে ইনভেস্টর পাওয়া অনেক কঠিন একটা ব্যাপার, তাই এ ব্যাপারে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে,অন্তত এক বছরের মূলধন নিয়ে আপনাকে মাঠে নামতে হবে। সরকারী ভাবেও ইনভেস্ট পাওয়া যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে,এ ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে এবং অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে যারা বিভিন্ন আইডিয়ার উপর ইনভেস্ট করে থাকেন সে দিকেও নজর রাখতে হবে ।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

লেখকঃ ফাউন্ডার এবং সিইও, এ আর হোস্ট।

Farma Cutting of bag making || ব্যাগ মেকিং এর ফর্মা কাটিং || পাটের ব্যাগ তৈরির নিয়ম

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আজ আমাদের ৪র্থ তম ক্লাস। আলোচনার বিষয়: কিভাবে পাটের ব্যাগ তৈরি করতে হয়। পাটের ব্যাগ তৈরি করার জন্য কিছু পূর্ব জ্ঞান থাকা অত্যান্ত জরুরী বিষয়। সেই জরুরী বিষয়গুলোও আজ আমরা জেনে নিব, আরো জানব যে কোন ব্যাগের ফর্মা কাটিং এর কাজ তথা ব্যাগ তৈরির পদ্ধতি। চলুন জেনে নেই বিস্তারিত:

প্রাথমিক জ্ঞান: 
আশা করছি আপনি সেলাই মেশিন চালাতে পারেন, আর না জানলেও হাত দিয়েই পাটের ব্যাগ তৈরি করা যায়। প্রতিটি ব্যাগের মৌলিক কয়েকটি অংশ রয়েছে:  (১) ব্যাগের body   (২) ব্যাগের গ্যাসেল ( গ্যাজেট)  (৩) ব্যাগের হ্যান্ডেল। নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন:

2. নিচের ইমেজটি লক্ষ্য করুন:
এটি হলো পাকা মাপ বা আপনার যতটুকু সটিক দরকার তার মাপ। এখন আপনাকে মনে রাখতে হবে এই ব্যাগটি সেলাই করার সময় বিভিন্ন জায়যায় কিছু ফেব্রিক্স অতিরিক্ত ব্যায় হবে, যাকে বলা হয় ওয়েস্ট। একটি সাভাবিক ব্যাগ তৈরিতে প্রায় ১৯.৫ ইঞ্চি ফেব্রিক্স কাংঙ্খিত মাপের চেয়ে বেশি নিতে হবে।

 আপনি যদি চান যে , একটি পকেট দিবেন , ভিতবে আরও পার্ট করবেন, ডাবল পকেট ব্যবহার করবেন ইত্যাদি যত ফিচার বারাবেন তত ইঞ্চি ফেব্রিক্স ওয়েস্ট সহ এর সাথে যোগ করে নিতে হবে।

ফর্মা কাটিং ও ব্যাগ মেকিং:
মুলত যখন একই সময়ে অনেকগুলো ব্যাগ তৈরির প্রয়োজন পরে ঠিক তখন সময়ের মুল্য দিতে গিয়েই ফর্মা কাটিং ্এর প্রয়োজন পরে। এটিই ব্যাগ তৈরির পদ্ধতি। আমরা আগেই জেনেছি যে একটি স্বাধারণ ব্যাগের মোট কয়টি অংশ থাকে, আমরা সেই অনুযায়ী একটি স্বাধারণ ব্যাগ তৈরির ফর্মা কাটব। আপনি যদি একটি বুঝে যান তাহলে প্রায় ৩০ ধরনেরও বেশি ব্যাগ তৈরি করতে পারবেন। নিচের পিকচারগুলো লক্ষ্য করুন:


আমি বুঝতে পেরেছি , আপনি হয়তো এই পিকচার গুলো দেথে নতুন অবস্থায় তেমন কিছু বুঝতে পারেন নাই। আর এটিকে আমি ব্যখ্যাও করবো না। নিজে নিজে এটি ভালো করে শিখতে চাইলে শুধু ব্লগ পড়লে বুঝা একটু কঠিন, কেননা এটি প্রাক্টিকাল একটি কাজ।নিচের ভিডিওটি দেখুন ভালো একটি আইডিয়া পাবেন। অথবা আপনি You tube এ গিয়ে লিখুন " jut handbag making tutorial " অনেক রিসোর্স পাবেন। আর আপনি চাইলে আপনার নিকটস্থ কারো কাজ থেকেও শিখে নিতে পারেন প্রাক্টিকাললি। আর্টিকেলটি না বুঝে থাকলে কমেন্ট করবেন, আমরা অবশ্যই রিপ্লে করব। আল্লাহ হাফেজ।





সামাজিক উদ্যোগ ও সামাজিক উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা


সামাজিক উদ্যোগ ও সামাজিক উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা
-- মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ

সামাজিক উদ্যোক্তা, ইংরেজিতে স্যোসাল এন্ট্রপ্রেনিউর।  সামাজিক উদ্যোগ যা সামাজিক সমস্যাগুলোর দিকে উপযুক্ত সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসে। সমাজের সমসাময়িক সমস্যা সমাধানে, সমাজকে সুন্দর করতে, দেশকে ও বিশ্বকে সুন্দর করতে যারা অভিনব, অলাভজনক উদ্যোগ ন্যায় তাদেরকে সামাজিক উদ্যোক্তা বলে। আরো নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে বোঝায়, এটি সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরি এবং সামাজিক মান/ভ্যালু বজায় রাখার প্রয়াসের উদ্যোগ। সামাজিক সমস্যা সমাধানে, পরিবেশ অনুকূলে আনার জন্য এই স্যোসাল মিশন। এখানে নির্দিষ্ট  ধরনের কাজ করার সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে, সেটা অবানিজ্যিক বা অলাভজনক সমাজিক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন হবে।

মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করনীয়।।

[বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।পোস্ট লিখেছেন: মো: নাইম মীর। সমসাময়ীক পোস্ট ]
সারা বিশ্বজুড়ে করোনাভইরাস এখন একটি আতঙ্কের নাম। ভাইরাসটির কারণে মৃত্যুর মিছিল যেনো থামছেনা। ভাইরাসটি ২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনের উহানে ধরা পড়ে। ইতোমধ্যে এটি বাংলাদেশসহ ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অধীনস্থ অঞ্চলে ছাড়িয়ে পড়েছে।

কোভিড-১৯ নামক ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত ৪ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে প্রান হারিয়েছেন প্রায় ২০হাজারেরও বেশি মানুষ! ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দৌরে এখন ইতালির পরেই সুইজারল্যান্ডের অবস্থান! এছাড়াও বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ জন প্রান হারিয়েছেন!
( তথ্য: ২৪/৩/২০২০)   

ভাইরাসটি কতটা ভয়াবহ?
শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো এই ভাইরাসের ক্ষেত্রেও সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বরসহ হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে । কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের প্রাথমিক লক্ষন হলো, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি।

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে করণীয়ঃ
কোভিড-১৯ প্রতিরোধে, যাদের সর্দি, কাশি ও হাঁচি হচ্ছে তাদের থেকে নুন্যতম ৩ থেকে ৬ ফিট দুরে থাকতে হবে। যাতে বাতাসে ভাসমান ভাইরাস কণা শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করতে না পারে। রাস্তায়ও যত্রতত্র থুথু ফেলা যাবে না। কারণ থুথু থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। সম্ভব হলে ঘরের বাইরে ভ্রমণের সময় সর্বদা হাত জীবাণুমুক্তকারকের বোতল সঙ্গে রাখতে হবে।

এছাড়াও ভাইরাসটি প্রতিরোধ করতে, জনসমাগম বেশি এমন এরকম এলাকা প্রয়োজন বেশি না হলে এড়িয়ে চলতে হবে। যাতে ভাসমান সম্ভাব্য করোনাভাইরাস কনা শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করতে না পারে। কাগজের টাকা, ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ইত্যাদি এগুলো যেখানে রাখা হয় যেমন ওয়ালেট বা পার্স এগুলো জীবাণুমুক্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। সন্দেহ হলে এগুলো ব্যবহারের পর হাত ধুতে হবে বা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। সংক্রমণটি এড়াতে অ্যালকোহল সমৃদ্ব হ্যান্ড রাব(হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাধারণ সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া যেতে পারে।

করোনা সুরক্ষায় মেডিক্যাল মাস্ক পরা উচিত?
করোনা ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগের বিস্তার সীমিত পর্যায়ে রাখতে মেডিক্যাল মাস্ক সাহায্য করে। তবে এটার ব্যবহারই এককভাবে সংক্রমণ হ্রাস করতে যথেষ্ঠ নয়। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা না করা এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর সর্বোত্তম উপায়।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর, এই করোনাভাইরাসটি ভয়াবহ গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের উপর এই ভাইরাসের প্রভাব বা এতে কতজন আক্রান্ত হতে পারে- সে সম্পর্কে আমরা এখনও বেশি কিছু জানি না। কিন্তু নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। সময় আমাদের সাথে নেই।”

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীঃ
চীন, ইতালি, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ডের মতো বাংলাদেশেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। মহামারী ভাইরাসটি চলতি মাসের ৭ তারিখে রাজধানী ঢাকায় প্রথম ধরা পড়েছিলো। আইইডিসিআরের দেয়া তথ্য মতে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ জন প্রান হারিয়েছেন!

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ইসলামের আদেশঃ
মানুষের জীবন ও মৃত্যু এ দুটি আল্লাহর হাতে। সুতরাং মহামারি করোনাকে ভয় না করে আল্লাহর ওপর অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস রেখে করোনা প্রতিরোধে হাদিসের উপদেশ মেনে চলা সর্বোত্তম। হাদিসের নির্দেশ অনুসারে মহামারি আক্রান্ত অঞ্চলে না যাওয়া উত্তম। যাতে মহামারি হয় নিয়ন্ত্রিত থাকে না হয় নতুন করে সংক্রমণ না হয়।


আল্লাহ তাআলা রোগের প্রতিষেধক সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন- আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে আদেশ দিলেন পাহাড়, গাছ ও উঁচু চালে আবাসস্থল তৈরি কর, তারপর সব ধরনের ফল থেকে খাও আর আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথসমূহে চলাচল কর। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা নাহল : আয়াত ৬৮-৬৯)


মানুষের জীবনের এমন কোনো দিক নেই, যেগুলো সম্পর্কে ইসলামের কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এমনকি জানা-অজানা রোগ-ব্যাধিও এর অন্তর্ভুক্ত। ব্যাপকভাবে আক্রান্ত (মহামারি) প্লেগ সম্পর্কে বিশ্বনবি বলেন- হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (মহামারি) প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা তিনি বলেন, ‘এটি হচ্ছে এক ধরনের আজাব। আল্লাহ যার ওপর তা (মহামারি) পাঠাতে ইচ্ছে করেন, পাঠান। কিন্তু আল্লাহ এটিকে মুমিনদের জন্য রহমত বানিয়ে দিয়েছেন। অতএব প্লেগ রোগে কোনো বান্দা যদি ধৈর্য ধরে আর এ বিশ্বাস নিয়ে নিজ শহরে (অঞ্চল) অবস্থান করতে থাকে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না। তাহলে ওই বান্দার জন্য থাকবে শহীদের সাওয়াবের সমান সাওয়াব।’ (বুখারি)

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি আমল হলো মুআব্বিজাত পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দেয়া। হাদিসে এসেছেঃ

হজরত ইব্রাহিম ইবনে মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে রোগে ইন্তেকাল করেন, সেই রোগের সময় তিনি নিজ দেহে ‘মুআব্বিজাত’ (সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) পড়ে ফুঁ দিতেন। অতঃপর যখন রোগের তীব্রতা বেড়ে গেল, তখন আমি (আয়েশা) সেগুলো পড়ে ফুঁ দিতাম। আমি তাঁর নিজের হাত তাঁর দেহের ওপর বুলিয়ে দিতাম। কেননা, তাঁর হাত ছিল বরকতময়। রাবি বলেন, ‘আমি যুহরিকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তিনি কীভাবে ফুঁ দিতেন? তিনি বললেনঃ তিনি তাঁর দুই হাতের ওপর ফুঁ দিতেন, অতঃপর সেই দুই হাত দিয়ে আপন মুখমণ্ডল বুলিয়ে নিতেন।’ (বুখারি)

কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা সুরক্ষা পেতে নিম্নোক্ত দোয়াগুলোর আমল করা যেতে পারেঃ

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামি ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ-
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।’ (তিরমিজি)

আইইডিসিআর গত ৯ মার্চ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে করোনা সংক্রান্ত যে কোন তথ্য জানতে নিন্মোক্ত নম্বরগুলো ঘোষণা করে। যদি কারো জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় তাহলে দ্রুত আইইডিসিআরের দেয়া নম্বরগুলোতে কল করে জানানো যাবে।

আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে দেয়া হটলাইনগুলো হলোঃ
০১৪০১১৮৪৫৫১ ০১৪০১১৮৪৫৫৪ ০১৪০১১৮৪৫৫৫ ০১৪০১১৮৪৫৫৬ ০১৪০১১৮৪৫৫৯ ০১৪০১১৮৪৫৬০ ০১৪০১১৮৪৫৬৩ ০১৪০১১৮৪৫৬৮ ০১৯৩৭০০০০১১ ০১৯৩৭১১০০১১ ০১৯২৭৭১১৭৮৪ ০১৯২৭৭১১৭৮৫
লেখক: শিক্ষার্থী, বিএম কলেজ,বরিশাল।