Sunday, April 5, 2020

Farma Cutting of bag making || ব্যাগ মেকিং এর ফর্মা কাটিং || পাটের ব্যাগ তৈরির নিয়ম

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আজ আমাদের ৪র্থ তম ক্লাস। আলোচনার বিষয়: কিভাবে পাটের ব্যাগ তৈরি করতে হয়। পাটের ব্যাগ তৈরি করার জন্য কিছু পূর্ব জ্ঞান থাকা অত্যান্ত জরুরী বিষয়। সেই জরুরী বিষয়গুলোও আজ আমরা জেনে নিব, আরো জানব যে কোন ব্যাগের ফর্মা কাটিং এর কাজ তথা ব্যাগ তৈরির পদ্ধতি। চলুন জেনে নেই বিস্তারিত:

প্রাথমিক জ্ঞান: 
আশা করছি আপনি সেলাই মেশিন চালাতে পারেন, আর না জানলেও হাত দিয়েই পাটের ব্যাগ তৈরি করা যায়। প্রতিটি ব্যাগের মৌলিক কয়েকটি অংশ রয়েছে:  (১) ব্যাগের body   (২) ব্যাগের গ্যাসেল ( গ্যাজেট)  (৩) ব্যাগের হ্যান্ডেল। নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন:

2. নিচের ইমেজটি লক্ষ্য করুন:
এটি হলো পাকা মাপ বা আপনার যতটুকু সটিক দরকার তার মাপ। এখন আপনাকে মনে রাখতে হবে এই ব্যাগটি সেলাই করার সময় বিভিন্ন জায়যায় কিছু ফেব্রিক্স অতিরিক্ত ব্যায় হবে, যাকে বলা হয় ওয়েস্ট। একটি সাভাবিক ব্যাগ তৈরিতে প্রায় ১৯.৫ ইঞ্চি ফেব্রিক্স কাংঙ্খিত মাপের চেয়ে বেশি নিতে হবে।

 আপনি যদি চান যে , একটি পকেট দিবেন , ভিতবে আরও পার্ট করবেন, ডাবল পকেট ব্যবহার করবেন ইত্যাদি যত ফিচার বারাবেন তত ইঞ্চি ফেব্রিক্স ওয়েস্ট সহ এর সাথে যোগ করে নিতে হবে।

ফর্মা কাটিং ও ব্যাগ মেকিং:
মুলত যখন একই সময়ে অনেকগুলো ব্যাগ তৈরির প্রয়োজন পরে ঠিক তখন সময়ের মুল্য দিতে গিয়েই ফর্মা কাটিং ্এর প্রয়োজন পরে। এটিই ব্যাগ তৈরির পদ্ধতি। আমরা আগেই জেনেছি যে একটি স্বাধারণ ব্যাগের মোট কয়টি অংশ থাকে, আমরা সেই অনুযায়ী একটি স্বাধারণ ব্যাগ তৈরির ফর্মা কাটব। আপনি যদি একটি বুঝে যান তাহলে প্রায় ৩০ ধরনেরও বেশি ব্যাগ তৈরি করতে পারবেন। নিচের পিকচারগুলো লক্ষ্য করুন:


আমি বুঝতে পেরেছি , আপনি হয়তো এই পিকচার গুলো দেথে নতুন অবস্থায় তেমন কিছু বুঝতে পারেন নাই। আর এটিকে আমি ব্যখ্যাও করবো না। নিজে নিজে এটি ভালো করে শিখতে চাইলে শুধু ব্লগ পড়লে বুঝা একটু কঠিন, কেননা এটি প্রাক্টিকাল একটি কাজ।নিচের ভিডিওটি দেখুন ভালো একটি আইডিয়া পাবেন। অথবা আপনি You tube এ গিয়ে লিখুন " jut handbag making tutorial " অনেক রিসোর্স পাবেন। আর আপনি চাইলে আপনার নিকটস্থ কারো কাজ থেকেও শিখে নিতে পারেন প্রাক্টিকাললি। আর্টিকেলটি না বুঝে থাকলে কমেন্ট করবেন, আমরা অবশ্যই রিপ্লে করব। আল্লাহ হাফেজ।





Sunday, March 29, 2020

সামাজিক উদ্যোগ ও সামাজিক উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা


সামাজিক উদ্যোগ ও সামাজিক উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা
-- মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ

সামাজিক উদ্যোক্তা, ইংরেজিতে স্যোসাল এন্ট্রপ্রেনিউর।  সামাজিক উদ্যোগ যা সামাজিক সমস্যাগুলোর দিকে উপযুক্ত সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসে। সমাজের সমসাময়িক সমস্যা সমাধানে, সমাজকে সুন্দর করতে, দেশকে ও বিশ্বকে সুন্দর করতে যারা অভিনব, অলাভজনক উদ্যোগ ন্যায় তাদেরকে সামাজিক উদ্যোক্তা বলে। আরো নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে বোঝায়, এটি সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরি এবং সামাজিক মান/ভ্যালু বজায় রাখার প্রয়াসের উদ্যোগ। সামাজিক সমস্যা সমাধানে, পরিবেশ অনুকূলে আনার জন্য এই স্যোসাল মিশন। এখানে নির্দিষ্ট  ধরনের কাজ করার সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে, সেটা অবানিজ্যিক বা অলাভজনক সমাজিক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন হবে।

সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে সকলের আগ্রহ এখন অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের স্কিল ও নতুন নতুন আইডিয়া সমাজের দারুণ কাজে আসছে, জীবন মান সহজ ও সুন্দর হচ্ছে।  সমাজ সেবার ব্রত থেকে সেবা হিসেবেই এ উদ্যোগের কান্ডারী  হয়ে উঠছেন তরুণরা । তবে সামাজিক উদ্যোক্তা হবার ক্ষেত্রে এবং সে ক্ষেত্রে সফলতা লাভের জন্য কয়েকটি দক্ষতা খুবই জরুরি।

★ সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং বুঝতে পারাঃ

সামাজিক উদ্যোগ মূলত শুরুই হয় সমস্যা উদঘাটনের মাধ্যমে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো সমাজের একটি বিশেষ অংশের প্রতি অন্যায্য, অসমতা, দারিদ্রতা এবং জটিল প্রক্রিয়া।   তাই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি সমস্যায়।

★ শুধু সমস্যা বুঝতে পারলেই হবে না। সেই সমস্যাগুলোকে কীভাবে সামাজিক ভাবে ভলান্টারিং এর মাধ্যমে মেধা, দক্ষতা ব্যবহার করে প্রশমিত করা যায় তা খুঁজে বের করতে হবে।

★  প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা নেয়াঃ সামাজিক উদ্যোগ মানে শুধু সমস্যা চিহ্নিত করে মূলধন খাটানো নয়। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা নিয়ে ইতিবাচক দৃশ্যমান  পরিবর্তন আনতে হবে।

★ সমাজের মানুষের প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করাঃ নিজস্ব অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবর্তনে উৎসাহিত করা

★ নিজের আবিস্কার এবং উদ্ভাবনকে পৌঁছে দিন সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছেঃ সেটি হতে পারে দেশের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এভাবে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন যেমনি আসবে।

★ পাবলিক স্পিকিং ও মোটিভেশানঃ
নিজের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য অন্যকে বোঝানো অন্যতম উপায় সকলের সামনে কথা বলা এবং যথোপযুক্ত যুক্তি দ্বারা তা তাদের বোঝানো। উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা। মোট কথা, সকলের সাথে যোগাযোগ করার মতো দক্ষতা থাকতে হবে।

★ প্রতিকূলতায় লড়ে যাওয়াঃ সামাজিক সমস্যাকে রুখে দাঁড়াতে গেলে প্রতিকুলতা সৃষ্টি হবেই, এটাই বাস্তবতা।  এখন সামাজিক উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন কিন্তু প্রতিকুল পরিবেশে লড়ার ক্ষমতাই নেই তাহলে এ কাজে না আসাটাই কাম্য।

★ বাধা পেরিয়ে এগোনোর মানসিকতা থাকতে হবে প্রতি মুহূর্তে। সেলফ মোটিভেট হতে হবে পরতে পরতে।

★ সৃজনশীলতাঃ সামাজিক উদ্যোক্তা হবার ক্ষেত্রে শুধু ব্যবসায়িক সুযোগ খুঁজলেই হবে না। হতে হবে সৃজনশীল মানসিকতাসম্পন্ন। গন্ডির বাইরে চিন্তা করার দক্ষতা থাকতে হবে। আর একজন সামাজিক উদ্যোক্তা স্বভাবজাত একজন সৃজনশীল এবং চিন্তাশীল হয়ে থাকেন।

অর্থাৎ, সামাজিক উদ্যোক্তা হবার মূলমন্ত্রই হলো, সামাজিক সমস্যা সমাধানে জীবন মান সহজ করতে অলাভজনক সমাজিক উদ্যোগ। এক্ষেত্রে  নিজস্ব সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে সামাজের মানুষের সেবা ও উন্নয়নে ভুমিকা রাখা।

লেখকঃ তরুণ সামাজিক উদ্যোক্তা ।

Thursday, March 26, 2020

মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করনীয়।।

[বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।পোস্ট লিখেছেন: মো: নাইম মীর। সমসাময়ীক পোস্ট ]
সারা বিশ্বজুড়ে করোনাভইরাস এখন একটি আতঙ্কের নাম। ভাইরাসটির কারণে মৃত্যুর মিছিল যেনো থামছেনা। ভাইরাসটি ২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনের উহানে ধরা পড়ে। ইতোমধ্যে এটি বাংলাদেশসহ ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অধীনস্থ অঞ্চলে ছাড়িয়ে পড়েছে।

কোভিড-১৯ নামক ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত ৪ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে প্রান হারিয়েছেন প্রায় ২০হাজারেরও বেশি মানুষ! ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দৌরে এখন ইতালির পরেই সুইজারল্যান্ডের অবস্থান! এছাড়াও বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ জন প্রান হারিয়েছেন!
( তথ্য: ২৪/৩/২০২০)   

ভাইরাসটি কতটা ভয়াবহ?
শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো এই ভাইরাসের ক্ষেত্রেও সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বরসহ হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে । কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের প্রাথমিক লক্ষন হলো, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি।

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে করণীয়ঃ
কোভিড-১৯ প্রতিরোধে, যাদের সর্দি, কাশি ও হাঁচি হচ্ছে তাদের থেকে নুন্যতম ৩ থেকে ৬ ফিট দুরে থাকতে হবে। যাতে বাতাসে ভাসমান ভাইরাস কণা শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করতে না পারে। রাস্তায়ও যত্রতত্র থুথু ফেলা যাবে না। কারণ থুথু থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। সম্ভব হলে ঘরের বাইরে ভ্রমণের সময় সর্বদা হাত জীবাণুমুক্তকারকের বোতল সঙ্গে রাখতে হবে।

এছাড়াও ভাইরাসটি প্রতিরোধ করতে, জনসমাগম বেশি এমন এরকম এলাকা প্রয়োজন বেশি না হলে এড়িয়ে চলতে হবে। যাতে ভাসমান সম্ভাব্য করোনাভাইরাস কনা শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করতে না পারে। কাগজের টাকা, ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ইত্যাদি এগুলো যেখানে রাখা হয় যেমন ওয়ালেট বা পার্স এগুলো জীবাণুমুক্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। সন্দেহ হলে এগুলো ব্যবহারের পর হাত ধুতে হবে বা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। সংক্রমণটি এড়াতে অ্যালকোহল সমৃদ্ব হ্যান্ড রাব(হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাধারণ সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া যেতে পারে।

করোনা সুরক্ষায় মেডিক্যাল মাস্ক পরা উচিত?
করোনা ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগের বিস্তার সীমিত পর্যায়ে রাখতে মেডিক্যাল মাস্ক সাহায্য করে। তবে এটার ব্যবহারই এককভাবে সংক্রমণ হ্রাস করতে যথেষ্ঠ নয়। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা না করা এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর সর্বোত্তম উপায়।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর, এই করোনাভাইরাসটি ভয়াবহ গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের উপর এই ভাইরাসের প্রভাব বা এতে কতজন আক্রান্ত হতে পারে- সে সম্পর্কে আমরা এখনও বেশি কিছু জানি না। কিন্তু নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। সময় আমাদের সাথে নেই।”

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীঃ
চীন, ইতালি, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ডের মতো বাংলাদেশেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। মহামারী ভাইরাসটি চলতি মাসের ৭ তারিখে রাজধানী ঢাকায় প্রথম ধরা পড়েছিলো। আইইডিসিআরের দেয়া তথ্য মতে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ জন প্রান হারিয়েছেন!

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ইসলামের আদেশঃ
মানুষের জীবন ও মৃত্যু এ দুটি আল্লাহর হাতে। সুতরাং মহামারি করোনাকে ভয় না করে আল্লাহর ওপর অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস রেখে করোনা প্রতিরোধে হাদিসের উপদেশ মেনে চলা সর্বোত্তম। হাদিসের নির্দেশ অনুসারে মহামারি আক্রান্ত অঞ্চলে না যাওয়া উত্তম। যাতে মহামারি হয় নিয়ন্ত্রিত থাকে না হয় নতুন করে সংক্রমণ না হয়।


আল্লাহ তাআলা রোগের প্রতিষেধক সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন- আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে আদেশ দিলেন পাহাড়, গাছ ও উঁচু চালে আবাসস্থল তৈরি কর, তারপর সব ধরনের ফল থেকে খাও আর আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথসমূহে চলাচল কর। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা নাহল : আয়াত ৬৮-৬৯)


মানুষের জীবনের এমন কোনো দিক নেই, যেগুলো সম্পর্কে ইসলামের কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এমনকি জানা-অজানা রোগ-ব্যাধিও এর অন্তর্ভুক্ত। ব্যাপকভাবে আক্রান্ত (মহামারি) প্লেগ সম্পর্কে বিশ্বনবি বলেন- হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (মহামারি) প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা তিনি বলেন, ‘এটি হচ্ছে এক ধরনের আজাব। আল্লাহ যার ওপর তা (মহামারি) পাঠাতে ইচ্ছে করেন, পাঠান। কিন্তু আল্লাহ এটিকে মুমিনদের জন্য রহমত বানিয়ে দিয়েছেন। অতএব প্লেগ রোগে কোনো বান্দা যদি ধৈর্য ধরে আর এ বিশ্বাস নিয়ে নিজ শহরে (অঞ্চল) অবস্থান করতে থাকে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না। তাহলে ওই বান্দার জন্য থাকবে শহীদের সাওয়াবের সমান সাওয়াব।’ (বুখারি)

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি আমল হলো মুআব্বিজাত পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দেয়া। হাদিসে এসেছেঃ

হজরত ইব্রাহিম ইবনে মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে রোগে ইন্তেকাল করেন, সেই রোগের সময় তিনি নিজ দেহে ‘মুআব্বিজাত’ (সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) পড়ে ফুঁ দিতেন। অতঃপর যখন রোগের তীব্রতা বেড়ে গেল, তখন আমি (আয়েশা) সেগুলো পড়ে ফুঁ দিতাম। আমি তাঁর নিজের হাত তাঁর দেহের ওপর বুলিয়ে দিতাম। কেননা, তাঁর হাত ছিল বরকতময়। রাবি বলেন, ‘আমি যুহরিকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তিনি কীভাবে ফুঁ দিতেন? তিনি বললেনঃ তিনি তাঁর দুই হাতের ওপর ফুঁ দিতেন, অতঃপর সেই দুই হাত দিয়ে আপন মুখমণ্ডল বুলিয়ে নিতেন।’ (বুখারি)

কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা সুরক্ষা পেতে নিম্নোক্ত দোয়াগুলোর আমল করা যেতে পারেঃ

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামি ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ-
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।’ (তিরমিজি)

আইইডিসিআর গত ৯ মার্চ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে করোনা সংক্রান্ত যে কোন তথ্য জানতে নিন্মোক্ত নম্বরগুলো ঘোষণা করে। যদি কারো জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় তাহলে দ্রুত আইইডিসিআরের দেয়া নম্বরগুলোতে কল করে জানানো যাবে।

আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে দেয়া হটলাইনগুলো হলোঃ
০১৪০১১৮৪৫৫১ ০১৪০১১৮৪৫৫৪ ০১৪০১১৮৪৫৫৫ ০১৪০১১৮৪৫৫৬ ০১৪০১১৮৪৫৫৯ ০১৪০১১৮৪৫৬০ ০১৪০১১৮৪৫৬৩ ০১৪০১১৮৪৫৬৮ ০১৯৩৭০০০০১১ ০১৯৩৭১১০০১১ ০১৯২৭৭১১৭৮৪ ০১৯২৭৭১১৭৮৫
লেখক: শিক্ষার্থী, বিএম কলেজ,বরিশাল।


Monday, March 23, 2020

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

[বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
পোস্টটি লিখেছেন: ফ্রিল্যান্সার মুনতাসির মাহদী।পোস্ট আইডি:DM001]
মার্কেটিংয়ের  একটি প্রকারভেদ হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং দুটো একই, শুধূমাত্র একটি পার্থক্য ছাড়া। আর সেই পার্থক্যটা হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ও ইন্টারনেটের ব্যবহার হয়, অন্যদিকে ট্র্যডিশনাল মার্কেটিংয়ে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয় না।

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে বেশকিছু ভালো সংজ্ঞা রয়েছে ইংরেজিতে।আপনাদের সুবিধার্থে এখানে কয়েকটা ব্যবহার করছি আমি।

উইকিপিডিয়ার মতে:
Digital marketing is the marketing of products or services using digital technologies, mainly on the Internet, but also including mobile phones, display advertising, and any other digital medium.
অর্থাৎ ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ইন্টারনেটে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পন্য বা সেবা সমূহের মার্কেটিং । তবে মোবাইল ফোন, ডিসপ্লে এ্যাডভারটাইজিং এবং অন্যন্য ডিজিটাল মিডিয়াও এর অন্তর্ভুক্ত।

হাবস্পট ব্লগের মতে:
Digital marketing encompasses all marketing efforts that use an electronic device or the internet. Businesses leverage digital channels such as engines, social media, email and other websites to connect with current and prospective customers.

ইনভেস্টোপিডিয়ার মতে:
Digital marketing is the use of the internet, mobile devices, social media, search engines and other channels to reach consumers.
অর্থাৎ ডিজিটাল মার্কেটিং হলো কাস্টমার বৃদ্ধিতে ইন্টারনেট , মোবাইল ডিভাইস, সোসাল মিডিয়া, সার্চ ইঞ্জিন এবং অন্যান্য চ্যানেল গুলোর ব্যবহার।

বিজনেস ডিরেক্টরির মতে:
The promotion of products or brands via one or more forms of electronic media is called digital marketing.
অর্থাৎ এক বা একাধিক প্রকারের ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে পণ্য বা ব্রান্ডের প্রচারকে বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং।

আর আমার মতে:
Digital marketing includes all marketing efforts that use the electronic gadget or the internet.
অর্থাৎ ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট অথবা ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে যে পদ্ধতি সকল মার্কেটিং প্রচেষ্টাকে অন্তর্ভূক্ত করে তাকেই বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং।
বি:দ্র: আমাদের এই সাইটে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর টোটাল গাইডলাইন, কেন শিখবেন , কখন শিখবেন, কোথায় শিখবেন,  কত টাকা লাগবে? ইত্যাদি সকল বিষয় এর উপর পোস্ট পাবলিশ করা হবে, ইনশাআল্লাহ। আর আপনার আগ্রহ  যদি একান্ত বেশি হয়ে থাকে তাহলে ‘এখানে’  ক্লিক করে ফর্মটি পূরণ করুন।আল্লাহ হাফেজ।।
লেখক: ওয়েব ডেভেলপার, ডিজিটাল মার্কেটার ও বিজনেস কন্সালটেন্ট।

Thursday, March 19, 2020

উপকার ডটকম, তারুণ্যের জয় ও আমার ভাবনা

[ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিমপোস্টটি লিখেছেন: মুহাম্মাদ খালেদ সাইফুল্লাহ। পোস্ট আইডি:US01 ]

জাতিসংঘের সংজ্ঞায় যাঁদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে, তাঁদেরই তরুণ বলা হয়। বিশ্বব্যাপী এই তরুণের সংখ্যা এখন ১৮০ কোটি। আবার ১৬ কোটির বেশি জনসংখ্যার বাংলাদেশে তরুণের সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বাংলাদেশে নির্ভরশীল মানুষের তুলনায় কর্মক্ষম জনসংখ্যার পরিমাণ বেশি। এই সুবিধা থাকবে ২০৪০ সাল পর্যন্ত।

 যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করা হোক না কেন, এ কথা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত যে, যুবদের ক্ষমতায়ন এর সাথে যে কোন দেশের বর্ধিত দরিদ্র জনগোষ্টির সাথে একটা যুগসূত্র রয়েছে। কারণ এটা জীবনের এমন একটি পর্যায়, যখন তারা ব্যক্তি অধিকার, সুযোগ সুবিধা ও অধিকার পেতে চায়, তারা সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাঠামো ও প্রেক্ষাপঠকে প্রভাবিত করে এবং এর দ্বারা প্রভাবিতও হয়। দেশের এক -তৃতিয়াংশ যুব পুরুষ ও যুব মহিলা। বিশ্বের তরুন সমাজের অর্ধেকের বেশী দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। বাংলাদেশে এর সংখ্যা আরোও বেশী। অথচ – আজকের যুব সমাজ ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নির্মাতা। এটা হওয়া উচিৎ ছিল। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ যুব সমাজ। এরাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নির্মাতা।

বছরের শুরুর দিকে বন্ধুবর মাহমুদুল্লাহ আলাপ জুড়ে দেয় তরুণদের নিয়ে অলাভজনক অনলাইন শিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনে সহযোগিতা মূলক ওয়েবসাইট তৈরি করে এক প্লাটফর্ম গড়ার বিষয়। আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করার নিশ্চিয়তা দেই। আমি ২০১৩ সাল থেকে তারুণদের নিয়ে সামাজিক ও সাহিত্য সংস্কৃতিক সংগঠন নিয়ে কাজ করায় ঝুলিতে কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে। তা থেকে শুরু করার চ্যালেঞ্জ গুলো শেয়ার করি। এ অদম্য তরুণ আরও অনুপ্রেরণীত হয়ে একদিন আমার বাসায় চলে আসে উপকার ডটকম নিয়ে দীর্ঘ আলাপচারিতার জন্য, আলোচনা দীর্ঘায়ীত হয়ে রাত বারোটা বেজে পরবর্তী তারিখে গড়ালেও আমাদের ক্লান্তি হচ্ছিল না কথাও ফুরাচ্ছিলোনা, মানুষের জন্য কাজ করার একটা তৃপ্তি আছে, সেটা উপলব্ধি করা ছাড়া লিখে বুঝানো সম্ভব নয়। এ তৃপ্ততাই উদ্যোক্তাদের চালিকা শক্তি অনুপ্রেরণার জায়গা।

ফেব্রুয়ারী মাসে আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে আলোচনায় বসি তরুণদের এক সভা করি উপকার ডটকম নিয়ে, দীর্ঘ একমাস আলোচনা, পর্যালোচনা, সমন্বয়ের পরে গতকাল ১৬'ই মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ভোধন হলো আমাদের এ অভিনব আয়োজন উপকার ডটকম।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বারবার বলে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু প্রায় বক্তব্যে বলতেন, ‘দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে বেকার সমস্যা দূর করতে হবে। একটি দেশের সমস্যা এবং সম্ভাবনা দুটিই তরুণ সমাজের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। তরুণরা বেকার থাকলে তারা বিপদগ্রস্ত হয়, দেশের জন্য ক্ষতিকর বোঝায় পরিণত হয়। আর কোনো দেশের তরুণ সমাজ যদি দক্ষ ও কর্মঠ হয় এবং কাজের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ পায়, তাহলে ওই দেশের দ্রুত উন্নতি কেউ আটকাতে পারে না। তরুণদের দীপ্ত মেধা এবং সতেজ জ্ঞানের গতি এই সবুজ-শ্যামল বাংলাকে প্রকৃত সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করতে পারে। ’
লেখক, IIUC ( অধ্যায়ণরত )

Wednesday, March 18, 2020

মেধা খাটালে পাট দিয়ে একটি বিপ্লব সংঘটিত করা সম্ভব

[ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। পোস্টটি লিখেছেন: পাটরত্ন জনাব ইবরাহিম খলীল।]

আমাকে মানুষজন পাট পাগল বলে থাকে। যার কারণ হিসেবে আমার কাছে মনে হয়-পাট আমার আবেগের জায়গা, গত ২৭ বছর আমি এ পাট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বয়স ৫৭ হলেও যুবকদের নিয়ে কাজ করি বলে অনেকে আমাকে যুবক বলে থাকেন।

পাট একটি আশার নাম। পাট শাক, ডাল দিয়ে পাট রান্না-আমরা এগুলোকে সুস্বাদু খাবার হিসেবেই জানি। শুকানো পাটের পানি পেটে ব্যথার নিরামক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইদানিং পাট পাতা থেকে গ্রীন টি উৎপাদিত হচ্ছে। ১২ টন অক্সিজেনের যোগান আসে পাট গাছ থেকে। পাট থেকে পেয়ে থাকি-লিথুনিয়াম ব্যাটারি, ফটোকপি মেশিনের কালি, কাঠপেন্সিল ভিতরের অংশ, হোম ডেকো থেকে শুরু করে এয়ার ইন্টেরিয়র পর্যন্ত। JDPC তে ২৪০ রকমের পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনী রয়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি শেষ হওয়া পাট মেলাতে একটি ম্যাগাজিন বের করেছিলাম। ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেই আমি দেখিয়ে দিয়েছি-পাট থেকে কত কী হতে পারে!

পলিথিন আমাদের পরিবেশের জন্য ভয়ংকর হুমকিস্বরূপ। বিশ্বের ৩০ টির মতো দেশ পলিথিন মুক্ত ঘোষণা করেছে নিজেদের। ইউরোপ পলিথিনকে জাদুঘরে দেখতে চায়। এই পলিথিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে পাটের ব্যাগ।
জাতিসংঘ পাটকে ন্যাচারাল ফাইভার হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। সবথেকে সেরা ফাইভার হলো কটন। কিন্তু, কটন উৎপাদন প্রক্রিয়া বেশ লম্বা এবং জটিল। কিন্তু সংক্ষিপ্ত যত্নে কটনের বিকল্প হিসেবে পাট যথাযথ।

এতসব উপকারিতা সম্বলিত পদার্থ পাটকে কাজে লাগাতে হলে দেশের যুবকদের কাজে লাগাতে হবে৷ কিন্তু ভালো প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণের অভাবে আমরা আমাদের এই নিজস্ব প্রডাক্টকে হারিয়ে ফেলছি। তবুও মাহমুদুল্লাহ ও  খালেদসাইফুল্লাহর মতো কিছু যুবকদের এগিয়ে আশা আমাদের বুকে আশার সন্ঞ্চার করে। মাদরাসা পড়ুয়া হয়েও যারা দেশ নিয়ে ভাবতে শিখেছে। বুঝতে চাচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ। পরিশেষে বলতে চাই _“মেধা খাটালে পাট দিয়ে একটি বিপ্লব সংঘটিত করা সম্ভব।”
লেখক_ চেয়ারম্যান, রুরাল ই-কমার্স স্টান্ডিং কমিটি।

Tuesday, March 17, 2020

E-Commerce business models || ই-কমার্স বিজনেস মডেল

 [ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। ]




আমরা প্রথমেই জানব বিজনেস মডেল আসলে কি?
পৃথিবীতে সব ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। একইভাবে ধীরে ধীরে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করা হয় তাই হলো বিজনেস মডেল।
আরো বিস্তারিত বলতে গেলে একটি ব্যবসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও গবেষণার লিপিবদ্ধ রূপ। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ের মালিকানার ধরন, মূলধন, পণ্য বা সেবা, বাজারজচতকরণ কৌশল, লভ্যাংশ নির্ধারণ ইত্যাদি।
এ পর্যায়ে আমরা কথা বলব ই-কমার্স ব্যবসার ধরন বা মডেল নিয়ে। প্রতিটি ব্যবসার মতো ই-কমার্স ব্যবসায়েরও নিজিস্ব ধরন রয়েছে। আর এর উপরই নির্ভর করে ই-কমার্স ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি। ই-কমার্স ব্যবসা মূলত চার ধরনের।

মডেল-১: Business to Business ( B2B )

বিজনেস টু বিজনেস বা বিটুবি মডেল হলো অনেকটা পাইকারি ব্যবসার মতো যেখানে দুটি পক্ষই ব্যবসায়ী যারা একে অন্যের নিকট পণ্য বা সেবা বিক্রয় করে থাকে। বর্তমানে বিশে^ বিটুবি মডেলের সব থেকে জনপ্রিয় ই-কমার্স কোম্পানির নাম হলো alibaba.com 
বাংলাদেশের বিটুবি কোম্পানি হলো সিন্দাবাদ ডটকম (sindabad.com) । তাদের বিক্রির তালিকায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্টেশনারি, কম্পিউটার এক্সেসরিজ, মোবাইল এক্সেসরিজ, ইলেক্ট্রিক্যাল এবং লাইটিংসহ বিভিন্ন রকমের পণ্য।
এছাড়া বাংলাদেশের বিটুসি মডেলের অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বিটুবি মডেলে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর জন্য নানা রকম উদ্যোগ গ্রহন করেছে।

মডেল-২: Business to Consumer ( B2C)

 ই-কমার্সের বিজনেস টু কনজ্যুমার বা বিটুসি মডেল হল অনেকটা খুচরা ব্যবসার মত। যেখানে ব্যবসায়ীরা সরাসরি ভোক্তার নিকট পণ্য বা সেবা বিক্রয় করেন।
বিশ্বে বিটুসি মডেলের সব থেকে বড় এবং জনপ্রিয় ই-কমার্স কোম্পানি হলো অ্যামাজন ডটকম(amazon.com)
, আর বাংলাদেশে এই মডেলের সব থেকে জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রকমারি ডটকম (rokomari.com) অথবা ডটকম(othoba.com)অন্যতম।
দেশীয় এসব প্রতিষ্ঠানের বিক্রির তালিকার শীর্ষে থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বই, ফ্যাশন (ছেলে-মেয়ে), গৃহসামগ্রী, ইলেক্ট্রনিক্স, গ্রোসারি, বাচ্চাদের পোশাক এবং খেলনা, স্টেশনারি, আসবাবপত্র, বিভিন্ন ধরনের সেবাসহ বাহারি সকল পণ্য।

মডেল-৩: Consumer to Consumer (C2C)

 কনজ্যুমার টু কনজ্যুমার বা সিটুসি মডেল হলো যেখানে একজন ভোক্তা অন্য একজন ভোক্তার নিকট সরাসরি পণ্য বা সেবা বিক্রয় করে থাকেন। এই মডেলে ব্যবসা পরিচালনা করে বিশে^র অনেকগুলো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিজেদের অবস্থান পাকা পোক্ত করেছে।
এসকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘ইবে ডটকম (ebay.com),তাওবাও ডটকম (taobao.com) অন্যতম।
বিশে^র নামকরা এসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিক্রি তালিকার শীর্ষে থাকা পর্ণগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলেক্ট্রনিক, মোটরস, স্পোর্টস, জুয়েলারি, ক্লোথিং, হাউজহোল্ড, আর্ট এবং পেইন্টিংস, বিভিন্ন ধরনের খেলনা এবং বিনোদন সামগ্রী।

মডেল-৪:Consumer to Business (C2B)

কনজ্যুমার টু বিজনেস বা সিটুবি মডেল হলো একজন ব্যক্তি তার পণ্য বা সেবার বিস্তারিত বিবরণসহ ওয়েবসাইট পোস্ট করেন এবং সেটা দেখে বিভিন্ন ব্যক্তি বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান উক্ত পণ্য বা সেবা ক্রয় করে থাকেন। এককথায় বলতে গেলে এটা হলো মার্কেট প্লেস মডেল।সিটুবি মডেলের প্রতিষ্ঠিত ই-কমার্স ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হলো মনস্টার ডটকম (monstar.com) ।
বাংলাদেশে এই মডেলে বেশকিছু ই-কমার্স সাইট রয়েছে। যাদের মধ্যে ‘আজকের ডিল ডটকম (ajkerdeal.com) , ‘ডারাজ ডটকম (daraz.com.bd) ’ উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশে এই মডেলের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে প্রায় সবরকমের পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় হলেও মূলত সকল প্রকার ইলেক্ট্রনিক পণ্য, ফ্যশন পণ্য, নানা রকমের এক্সেসরিজ, গ্রেসারি পণ্যসমূহ অধিক পরিমাণে বিক্রি হয়ে থাকে।

 মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে আজকের পোস্টটি এখানেই শেষ করা হলো। পোস্ট সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা , মতামত অথবা পরামর্শ থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। পোস্ট সময় উপযোগী , মানসম্মত  ও তথ্য ভিত্তিক হলে শেয়ার করবেন। আল্লাহ হাফেজ।।

  


x